ছোটবেলায় সুনির্মল বসুর ‘হবুচন্দ্রের আইন’ কবিতাটি পড়ার সময় মনে প্রশ্ন জেগেছিল, এমন অবাস্তব পরিস্থিতি কি কোথাও হতে পারে? কিন্তু বিগত ফ্যাসিবাদের আমলে দেশের জনগণ যেভাবে বাকরুদ্ধ হয়ে জীবন কাটিয়েছিল, তা যেন সেই কাল্পনিক রাজত্বকেই মনে করিয়ে দিত। পেটের ক্ষুধা বা ন্যায্য অধিকারের কথা বললেও নেমে আসত পুলিশি নির্যাতন। ফ্যাসিবাদের সেই সময়ে এ দেশের মানুষ মন খুলে নিজেদের কষ্টের কথা বলতে পারেনি, যা ছিল একপ্রকার বোবা কান্না।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে মাফিয়া সরকারের পতনের পর দেশ এখন সেই দমবন্ধ পরিবেশ থেকে মুক্তি পেয়েছে। আজ জনগণ খোলা মনে তাদের ক্ষোভ, হতাশা ও অধিকারের কথা প্রকাশ করতে পারছে, যা মূলত বোবা কান্না থেকে সরব কান্নায় রূপান্তরেরই বহিঃপ্রকাশ।
তবে এই পরিবর্তনের যাত্রায় আমাদের সচেতন থাকতে হবে, যাতে অতীত অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। গোলকধাঁধা বা ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে ওত পেতে থাকা অপশক্তি যেন ফায়দা লুটতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। দেশ ও জাতির শত্রুদের হাতে নতুন করে ক্ষমতা তুলে না দিয়ে গণতান্ত্রিক ধারাকে টিকিয়ে রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
























