মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০২:২৭ অপরাহ্ন | ৮ই নভেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | রবিবার, ২৩শে কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

গানের ক্লাস থেকে বিতাড়িত, সেই উষা উত্থুপই পেলেন পদ্মভূষণ

  • হালনাগাদ সময় : ০২:১৩:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

যে কণ্ঠ একসময় ছিল উপহাসের কারণ, সেই কণ্ঠই আজ তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয়। স্কুলে গান গাইতে গিয়ে নিজের ভারী কণ্ঠস্বরের কারণে সংগীতের ক্লাস থেকে বেরিয়ে যেতে হয়েছিল তাঁকে। অথচ সময়ের ব্যবধানে সেই স্বতন্ত্র কণ্ঠ দিয়েই ভারতীয় সংগীতজগতে নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন গায়িকা উষা উত্থুপ। আজ তাঁর জন্মদিন। ১৯৪৭ সালের ৮ নভেম্বর মুম্বাইয়ে জন্মগ্রহণ করেন এই কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী।

ছোটবেলায় কণ্ঠ নিয়ে বিড়ম্বনা

উষা উত্থুপের বেড়ে ওঠা সংগীতপ্রেমী পরিবারে। ছোটবেলা থেকেই ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের পাশাপাশি পাশ্চাত্য সংগীতের সঙ্গে পরিচয় ছিল তাঁর। মুম্বাইয়ের সেন্ট অ্যাগনেস হাই স্কুলে পড়াশোনার সময় থেকেই গানের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। তবে তাঁর কণ্ঠ ছিল অন্য মেয়েদের তুলনায় অনেক বেশি ভারী ও গভীর।

এই কণ্ঠের কারণেই একবার তাঁকে স্কুলের সংগীতের ক্লাস থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। তবে তাঁর শিক্ষক প্রতিভা বুঝতে পেরে তাঁকে ক্ল্যাপার ও ট্রায়াঙ্গেলের মতো বাদ্যযন্ত্র বাজানোর সুযোগ দেন।

মাত্র ৯ বছরেই মঞ্চে গান

প্রাতিষ্ঠানিক সংগীত প্রশিক্ষণ ছাড়াই মাত্র ৯ বছর বয়সে জনসমক্ষে গান করেন উষা। পরে রেডিও উপস্থাপক আমিন সায়ানির মাধ্যমে রেডিও সিলনের ‘ওভালটিন মিউজিক আওয়ার’-এ গান গাওয়ার সুযোগ পান। সেখানে ‘মকিংবার্ড হিল’ গানটি পরিবেশন করেন তিনি।

১৯৬৯ সালে চেন্নাইয়ের ‘নাইন জেমস’ নাইটক্লাবে গান গাওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর পেশাদার সংগীতজীবন শুরু হয়। প্রথম পরিবেশনাতেই প্রশংসা কুড়ান তিনি। এরপর কলকাতা, দিল্লি ও মুম্বাইয়ের বিভিন্ন মঞ্চে গান করেন।

১৯৭০ সালে ‘বোম্বে টকি’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন উষা। পরে ‘হরে রাম হরে কৃষ্ণ’সহ বিভিন্ন সিনেমায় কণ্ঠ দেন। আর ডি বর্মণ ও বাপ্পি লাহিড়ীর মতো সংগীত পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি।

‘রম্ভা হো হো হো’, ‘মেহবুবা মেহবুবা’ ও ‘ডার্লিং’-এর মতো গান তাঁকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা এনে দেয়।

স্বীকৃতির ঝুলিতে পদ্মশ্রী ও পদ্মভূষণ

দীর্ঘ সংগীতজীবনে দেশ-বিদেশের অসংখ্য মঞ্চে গান গেয়ে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন উষা। সংগীতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১১ সালে পান পদ্মশ্রী। এরপর ২০২৪ সালে তাঁকে দেওয়া হয় পদ্মভূষণ।

যে কণ্ঠ একসময় ছিল সমালোচনার কারণ, সেই কণ্ঠই তাঁকে এনে দিয়েছে বিশ্বজোড়া পরিচিতি। উষা উত্থুপের জীবন তাই প্রমাণ করে, নিজের স্বতন্ত্রতাকে দুর্বলতা না ভেবে শক্তিতে পরিণত করতে পারলেই সাফল্যের পথ তৈরি হয়।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপিত

08 November 2026

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে নতুন গতি: সাড়ে চার হাজার বাংলাদেশি কর্মীর চাহিদাপত্র সত্যায়ন

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

গানের ক্লাস থেকে বিতাড়িত, সেই উষা উত্থুপই পেলেন পদ্মভূষণ

হালনাগাদ সময় : ০২:১৩:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

যে কণ্ঠ একসময় ছিল উপহাসের কারণ, সেই কণ্ঠই আজ তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয়। স্কুলে গান গাইতে গিয়ে নিজের ভারী কণ্ঠস্বরের কারণে সংগীতের ক্লাস থেকে বেরিয়ে যেতে হয়েছিল তাঁকে। অথচ সময়ের ব্যবধানে সেই স্বতন্ত্র কণ্ঠ দিয়েই ভারতীয় সংগীতজগতে নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন গায়িকা উষা উত্থুপ। আজ তাঁর জন্মদিন। ১৯৪৭ সালের ৮ নভেম্বর মুম্বাইয়ে জন্মগ্রহণ করেন এই কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী।

ছোটবেলায় কণ্ঠ নিয়ে বিড়ম্বনা

উষা উত্থুপের বেড়ে ওঠা সংগীতপ্রেমী পরিবারে। ছোটবেলা থেকেই ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের পাশাপাশি পাশ্চাত্য সংগীতের সঙ্গে পরিচয় ছিল তাঁর। মুম্বাইয়ের সেন্ট অ্যাগনেস হাই স্কুলে পড়াশোনার সময় থেকেই গানের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। তবে তাঁর কণ্ঠ ছিল অন্য মেয়েদের তুলনায় অনেক বেশি ভারী ও গভীর।

এই কণ্ঠের কারণেই একবার তাঁকে স্কুলের সংগীতের ক্লাস থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। তবে তাঁর শিক্ষক প্রতিভা বুঝতে পেরে তাঁকে ক্ল্যাপার ও ট্রায়াঙ্গেলের মতো বাদ্যযন্ত্র বাজানোর সুযোগ দেন।

মাত্র ৯ বছরেই মঞ্চে গান

প্রাতিষ্ঠানিক সংগীত প্রশিক্ষণ ছাড়াই মাত্র ৯ বছর বয়সে জনসমক্ষে গান করেন উষা। পরে রেডিও উপস্থাপক আমিন সায়ানির মাধ্যমে রেডিও সিলনের ‘ওভালটিন মিউজিক আওয়ার’-এ গান গাওয়ার সুযোগ পান। সেখানে ‘মকিংবার্ড হিল’ গানটি পরিবেশন করেন তিনি।

১৯৬৯ সালে চেন্নাইয়ের ‘নাইন জেমস’ নাইটক্লাবে গান গাওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর পেশাদার সংগীতজীবন শুরু হয়। প্রথম পরিবেশনাতেই প্রশংসা কুড়ান তিনি। এরপর কলকাতা, দিল্লি ও মুম্বাইয়ের বিভিন্ন মঞ্চে গান করেন।

১৯৭০ সালে ‘বোম্বে টকি’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন উষা। পরে ‘হরে রাম হরে কৃষ্ণ’সহ বিভিন্ন সিনেমায় কণ্ঠ দেন। আর ডি বর্মণ ও বাপ্পি লাহিড়ীর মতো সংগীত পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি।

‘রম্ভা হো হো হো’, ‘মেহবুবা মেহবুবা’ ও ‘ডার্লিং’-এর মতো গান তাঁকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা এনে দেয়।

স্বীকৃতির ঝুলিতে পদ্মশ্রী ও পদ্মভূষণ

দীর্ঘ সংগীতজীবনে দেশ-বিদেশের অসংখ্য মঞ্চে গান গেয়ে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন উষা। সংগীতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১১ সালে পান পদ্মশ্রী। এরপর ২০২৪ সালে তাঁকে দেওয়া হয় পদ্মভূষণ।

যে কণ্ঠ একসময় ছিল সমালোচনার কারণ, সেই কণ্ঠই তাঁকে এনে দিয়েছে বিশ্বজোড়া পরিচিতি। উষা উত্থুপের জীবন তাই প্রমাণ করে, নিজের স্বতন্ত্রতাকে দুর্বলতা না ভেবে শক্তিতে পরিণত করতে পারলেই সাফল্যের পথ তৈরি হয়।

Share this news as a Photo Card