মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০২:২৩ অপরাহ্ন | ৮ই নভেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | রবিবার, ২৩শে কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

জনগণের সম্মতি ছাড়া সরকারের বৈধতা নেই: আসিফ মাহমুদ

  • হালনাগাদ সময় : ০২:০৩:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

জনগণের আস্থা ও সম্মতি ছাড়া কোনো সরকার বা রাজনৈতিক নেতৃত্ব বৈধতা দাবি করতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতিনিধি আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘আইক্যাপ’-এর (ICAPP) সমাপনী অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বুধবার শুরু হওয়া এ সম্মেলনে এশিয়ার ৩৯টি দেশের ৯২টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বাংলাদেশ থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতিনিধিরা সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।

সম্মেলনে এনসিপির প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে ‘পরিবর্তনশীল বিশ্বে আস্থা পুনর্গঠন, গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন, তরুণদের ক্ষমতায়ন ও আঞ্চলিক সংহতি’ শীর্ষক অধিবেশনে বক্তব্য দেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবিতে জনগণের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরেন। এ সময় তিনি বলেন, “জনগণের আস্থা ও সম্মতি ছাড়া কোনো সরকার বা রাজনৈতিক নেতৃত্ব বৈধতা দাবি করতে পারে না।”

গণতন্ত্রকে কেবল নির্বাচনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রাখার আহ্বান জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, রাজনৈতিক দল ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি স্তরে গণতান্ত্রিক চর্চা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা এবং দায়িত্বশীল রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তরুণদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, আজকের সিদ্ধান্ত আগামী ১০, ১৫ কিংবা ২০ বছরের পৃথিবীকে প্রভাবিত করবে। অথচ এসব সিদ্ধান্তের প্রভাব মোকাবিলা করতে হবে বর্তমান তরুণ প্রজন্মকে। তাই রাজনৈতিক দল, সংসদ ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তরুণদের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব এবং অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।

আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা, সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং জাতীয় স্বার্থ ও নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রেখে সব দেশের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখার আহ্বান জানান। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় দুর্যোগ প্রস্তুতি, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা ও অর্থায়নে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে ক্ষমতাকে দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং নেতৃত্ব জবাবদিহির আওতায় থাকবে। সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে সিউল ডিক্লারেশন পাঠ করা হয় এবং পরবর্তী সম্মেলন ভিয়েতনামের হ্যানয়ে অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপিত

08 November 2026

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে নতুন গতি: সাড়ে চার হাজার বাংলাদেশি কর্মীর চাহিদাপত্র সত্যায়ন

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

জনগণের সম্মতি ছাড়া সরকারের বৈধতা নেই: আসিফ মাহমুদ

হালনাগাদ সময় : ০২:০৩:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

জনগণের আস্থা ও সম্মতি ছাড়া কোনো সরকার বা রাজনৈতিক নেতৃত্ব বৈধতা দাবি করতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতিনিধি আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘আইক্যাপ’-এর (ICAPP) সমাপনী অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বুধবার শুরু হওয়া এ সম্মেলনে এশিয়ার ৩৯টি দেশের ৯২টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বাংলাদেশ থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতিনিধিরা সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।

সম্মেলনে এনসিপির প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে ‘পরিবর্তনশীল বিশ্বে আস্থা পুনর্গঠন, গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন, তরুণদের ক্ষমতায়ন ও আঞ্চলিক সংহতি’ শীর্ষক অধিবেশনে বক্তব্য দেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবিতে জনগণের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরেন। এ সময় তিনি বলেন, “জনগণের আস্থা ও সম্মতি ছাড়া কোনো সরকার বা রাজনৈতিক নেতৃত্ব বৈধতা দাবি করতে পারে না।”

গণতন্ত্রকে কেবল নির্বাচনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রাখার আহ্বান জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, রাজনৈতিক দল ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি স্তরে গণতান্ত্রিক চর্চা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা এবং দায়িত্বশীল রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তরুণদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, আজকের সিদ্ধান্ত আগামী ১০, ১৫ কিংবা ২০ বছরের পৃথিবীকে প্রভাবিত করবে। অথচ এসব সিদ্ধান্তের প্রভাব মোকাবিলা করতে হবে বর্তমান তরুণ প্রজন্মকে। তাই রাজনৈতিক দল, সংসদ ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তরুণদের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব এবং অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।

আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা, সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং জাতীয় স্বার্থ ও নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রেখে সব দেশের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখার আহ্বান জানান। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় দুর্যোগ প্রস্তুতি, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা ও অর্থায়নে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে ক্ষমতাকে দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং নেতৃত্ব জবাবদিহির আওতায় থাকবে। সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে সিউল ডিক্লারেশন পাঠ করা হয় এবং পরবর্তী সম্মেলন ভিয়েতনামের হ্যানয়ে অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়।

Share this news as a Photo Card