দেশে সদ্য বিদায়ী আগস্ট মাসে সর্বমোট ২৫২ জন নারী ও কন্যাশিশু বিভিন্ন ধরনের নৃশংস শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ৫৫ জন এবং ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৫৪ জন। অত্যন্ত উদ্বেগজনক তথ্য হলো, ধর্ষণের শিকার এই ৫৪ জনের মধ্যে ৩৬ জনই অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যাশিশু।
দেশের ১৫টি শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিক এবং দুটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের ওপর ভিত্তি করে এই সংকলন ও পরিসংখ্যান তৈরি করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপপরিষদ।
সংগঠনটির নিয়মিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আগস্ট মাসে মোট নির্যাতনের শিকার ২৫২ জনের মধ্যে কন্যাশিশুর সংখ্যা ১১৮ এবং প্রাপ্তবয়স্ক নারীর সংখ্যা ১৩৪ জন। এছাড়া হত্যাকাণ্ডের শিকার ৫৫ জনের মধ্যে ১০ জন কন্যাশিশু এবং ৪৫ জন নারী রয়েছেন।
প্রতিবেদনের বিশদ বিশ্লেষণে জানা যায়, আগস্টে ধর্ষণের শিকার হওয়া ৫৪ জনের মধ্যে ১৮ জন প্রাপ্তবয়স্ক নারী এবং ৩৬ জন কন্যাশিশু। তাদের মধ্যে ৮ জন কন্যাশিশুসহ মোট ১৩ জন পাশবিক দলবদ্ধ ধর্ষণের (গণধর্ষণ) শিকার হয়েছেন। এমনকি ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে এক কন্যাশিশুসহ দুজনকে। এর বাইরে আরও ১১ জন কন্যাশিশুসহ অন্তত ১৪ জনকে ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়েছে।
যৌন সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও শিশুদের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেশি। আগস্টে দেশে যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন ৩০ জন, যার মধ্যে ২৪ জনই কন্যাশিশু। যৌন নিপীড়নের শিকার ১৪ জনের মধ্যে ১২ জনই কন্যাশিশু। অন্যদিকে উত্ত্যক্তকরণের শিকার হওয়া ৯ জনের মধ্যে ৮ জনই কন্যাশিশু বলে নথিবদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে সাইবার সহিংসতার শিকার হয়েছেন চার কন্যাশিশুসহ মোট সাতজন নারী।
মহিলা পরিষদের মাসিক প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, উল্লিখিত অপরাধ ছাড়াও বিদায়ী আগস্ট মাসে নারী ও শিশুরা হত্যাচেষ্টা, এসিড নিক্ষেপ বা অগ্নিদগ্ধ হওয়া, আত্মহত্যায় প্ররোচনা, গৃহকর্মী নির্যাতন, পারিবারিক সহিংসতা, যৌতুকের জন্য নির্যাতন, বাল্যবিয়ে এবং জোরপূর্বক অপহরণের মতো বহুমাত্রিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
সংগঠনটি সতর্ক করে জানিয়েছে, এই পরিসংখ্যানটি মূলত সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করে তৈরি করা হয়েছে। তবে সামাজিক প্রেক্ষাপট, লোকলজ্জা ও দূরবর্তী এলাকার অনেক ঘটনাই শেষ পর্যন্ত গণমাধ্যমে পৌঁছায় না; ফলে বাস্তবে নারী ও শিশু নির্যাতনের প্রকৃত সংখ্যা এই হিসাবের চেয়েও বহু গুণ বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


























